কবিতার পরিবারের একমাত্র ব্লগজিন

এখনও পর্যন্ত  Website counter  জন ব্লগটি দেখেছেন।

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

স্নেহাসিশ ব্যানার্জি


 ছিঁচকাঁদুনী মেয়েটি

 খুব ছোট্ট বেলায় আমার পায়ে ফুল এঁকেছিল পিঙ্কি ,
 নখ দিয়ে সাদা খড়ি টেনে আশ্চর্য এক ফুল ।
 পিঙ্কির হাতে মাখানো ঘামের গন্ধ উঠত সেই ফুল থেকে ।
 আমি ঐ ফুল মুছতে গেলে -
 ছিঁচকাঁদুনীটা ভ্যাঁ করে কেঁদে বলেছিল ,
 “ বাবু দা , তোকে পুজো করি , তোর পায়ে ফুল দিলাম ।”
 যত্ন করে দেখিনি সেই ফুলটাকে ,
 নোংরা পা ধুয়ে দিয়েছিল মা , আর সমাজ ,
 উভয়েই বলেছিল , “পিঙ্কি নোংরা মেয়ে ।”
 সেই থেকে পিঙ্কির সাথে খেলিনি আর কোনোদিন ।

 পিঙ্কি এখনও ফুল আঁকে রোজ ,
 পয়সাওয়ালা ‘বাবু’দের পায়ে পায়ে ।
 সাদা নখ, আর লম্বা লিপস্টিকের দাগ আঁকে
 অভুক্ত সমাজের বুক জুড়ে ।
 ফুলগুলোতে সুগন্ধ ওঠে, ঘামের গন্ধটা নেই ।
 আমার ঠাণ্ডা বুক অনুশোচনায় দগ্ধ হয় ,
মা পায়ের ফুলটা ধুয়েছিল ,
 মনেরটা এখনও মোছা যায় নি ।
 পিঙ্কির সাথে আরও একবার খেলতে ইচ্ছে করে ,
 ছিঁচকাঁদুনী মেয়েটা আর কাঁদে না -
 পিঠে লালসার চুম্বন পড়ে কালশিটে পড়ে গেছে ,
 তাই ঠোঁট শিখেছে কিভাবে হাসতে হয় ,
 কিন্তু, ওর মন শিখেছে কি হাসতে ?- জানি না –
 মনটা হয়ত ছিঁচকাঁদুনীই আছে ।
 আমি ফুল আঁকতে পারি নি কোনোদিন ,
 এখন রাত এলেই ফুল পাড়ার পিঙ্কি
 ওর সাদা বিছানায় নখ গেঁথে কেবল কাঁটা আঁকে আমার বুকে ।
 
 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন