কবিতার পরিবারের একমাত্র ব্লগজিন

এখনও পর্যন্ত  Website counter  জন ব্লগটি দেখেছেন।
ম্যানিফেস্টো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ম্যানিফেস্টো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৩

ম্যানিফেস্টো - জয়ন্ত সাহা

আধুনিক কবিতা একজন সাধারণ মানুষের ভাবনায়


কবিতার পরিবারের দুই কাছের মানুষ সুমিত রঞ্জন দাস ও সিদ্ধার্থ শর্মার অনুরোধ অগ্রাহ্য না করতে পেরে এই লেখা লিখতে বসেছি - যদিও আমি নিজেই সন্দিহান আধুনিক কবিতার বিচারবোধ নিয়ে কিছু লেখার সক্ষমতা সম্বন্ধে। আমি নিজে ঠিক আধুনিক বলতে যা বোঝায় সেরকম কবিতা লিখে অভ্যস্ত নই - কিন্তু সমসাময়িক আধুনিক কবিতার পাঠক। সময়ের পরিবর্তন হচ্ছে, মানুষের রুচির পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু মানবচিত্তের ইচ্ছার আরতিতে কল্পনা চিরকাল মুক্ত বিহঙ্গের মত থাকে - আবার সামাজিক নিয়মে বাঁধা, অস্থির সমাজের কর্দম ও ক্ষতচিহ্ন মাখা, দগদগেঘায়ে লিপ্ত অনুভব-ও জুড়ে থাকতে চাইছে। আবেগ প্রবন ও আধুনিক কবিদের মধ্যেসবচেয়ে গীতিময় আমার প্রিয় বদ্ধুদেব বসুর মতে - "কবিতা এমন কোনো পদার্থ নয়যাকে কোনো একটা চিহ্নদ্বারা সনাক্ত করা যায়' যেহেতু আধুনিকতা হচ্ছে সমাজপ্রগতির নির্ণয়ক তাই মৌলিক প্রেম, প্রকৃতি - র সাথে চার পাশের মানুষ, সামাজিক আন্দোলন, ইত্যাদি অজান্তেই হয়ে ওঠে কবিতার মূল উপকরণ।কবিকে মনোযোগীহতে হবে দেখতে তার কাব্যকে ঘিরে আছে কিনা তীব্র সচেতনতা ও অনুভবের পটভূমি।অনেকেই যারা কবিতা বুঝলাম না কবিতা বুঝি না বলে খেদ প্রকাশ করেন তাদেরভাবতে হবে - কবিতা বোঝা নয় - কবিতা অনুভবের - কবিতা উপলব্ধির। কবি ও পাঠকের মেলবন্ধন ঘটে কবিতা। আর এই মেল্বন্ধনেই অপজাতের বিষয়াশ্রয়ী হয়েও অনেকসময়-ই কবিতা উঁচু জাতের শিল্প কর্ম হতে পেরেছে। কনোর রকম ছুৎমার্গ ছাড়াইপড়তে ভালো লাগে সেই সব কবির কবিতাও যারা তাবৎ সংস্কার ও প্রথা ভাঙার আন্দোলনে সুর্যের মত দ্বিধাহীন, এমন কিছু তরুন কবির সন্ধান-ও পেয়েছি এইবৈদ্যুতিন মাধ্যমের দ্বারা। হাংরি আন্দোলনের বয়স ছিল মাত্র চার বছর -কিন্তু আজ-ও এই পঞ্চাশ বছরে পরে কাউকে কাউকে দেখি এর ভাবধারাতে উদ্বুদ্ধহতে।

মজা হলো এই যে বিশ্বে যেই কবিতাগুলো বেশি জনপ্রিয় তার মধ্যেপ্রেমের কবিতার সংখ্যাই বেশি। বৈষ্ণব পদকারকার দেহাত্মা আর পরমাত্মার সংশ্লেষণ ঘটিয়েছিলেন তাদের কবিতায়। সেই ধারায় লেখা অনেক কবির কবিতায়আজকাল দেখি দেহাত্মা অর্থাৎ দেহজ অনুভব বেশি প্রাধান্য পায় কিন্তুপরমাত্মিক অনুভব উহ্য থেকে যায়। তাদের ভাবতে হবে এই গ্যাপ টা। পরকিয়াপ্রেমে অনেকের অনুরক্ততা কবিতায় ফুটে ওঠে - রাধা-কৃষ্ণ, ইউসুফ-জুলেখা -এদের কাছে দারুন অনুভব আনে। আবেগময় অনুভূতিতে শব্দের ব্যঞ্জনায় সাজিয়ে আবেগের উন্মাদনায় সৌন্দর্যের আস্বাদন ঘটান কত কবি আজ-ও। কিন্তু কবিতা লিখতে লিখতে কবি যখন এই বোধে উপনীত হন - প্রেম শাশ্বত, প্রেম চিরন্তন তখনঅনেক সময়-ই প্রেমের কবিতা লিখতে আর তার মন চায় না।আজকাল আধুনিক গদ্য কবিতার ভ্যন্তরে-ও অনেক কবি সহজ ও সচেতনভাবে উপস্থাপনায় প্রিয়া ও রাজনীতিকে তুলনা করতে পারেন। গদ্যগুণসমৃদ্ধ আধুনিক কবি ছন্দবিহীন পঙ্ক্তি দ্বারাও যখনগদ্যে লুক্কায়িত ছন্দ পাঠকের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হন - তা অসাধারনতায় পৌঁছে যায়। তবে সাধারণ পাঠকের কাছে খুব ন্যায্য কারণেই একটা ভাবনা আসতেপারে আধুনিক কবিতা ঠিক কতটা ভাবোন্মাদ অথবা কতটা ভাবগ্রাহী হলে কোনোকবিতাকে কবিতা রূপে গ্রহণ করা যেতে পারে। এই ভাবনাটাকেও আধুনিক কবিদেরগুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি। তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ, আখ্যানমূলক, অন্ত্যমিলবিশিষ্ট লেখা পড়তে অভ্যস্ত পাঠকের কাছে গদ্যে ছন্দ খুঁজে দেওয়াআধুনিক কবিদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রপঞ্চর পরে প্রপঞ্চ নির্মাণের তাগিদ বাংলা কবিতা সাহিত্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস।

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

সরদার ফারুক

এবারের ম্যানিফেস্টোঃকবিতা নিয়ে কিছু কথা

বাস্তবে এই প্রশ্নটা আমাদের ভাবতে বাধ্য করছে । বৈদ্যুতিন মাধ্যমের সুবিধে নিয়ে এবং খুব জনপ্রিয় সোসাল সাইট গুলোর কল্যানে মানুষ এত কবিতা লিখছেন - পড়ছেন - ভাবছেন যে মনে প্রশ্নের চিহ্ন এঁকে দিচ্ছে কেমন কবিতা আমরা পছন্দ করি ? কী রকম হওয়া উচিত কবিতার শরীর ? এই প্রশ্নগুলো সবাইকে ভাবায় । অনেকদিন হ’ল আধুনিক কবিতার মৃত্যু ঘোষণা করে এসেছে পোস্টমডার্ন কবিতা । বিনির্মাণ ,বিমানবিকীকরণও এখন পুরোনো হয়ে গেছে , তবু পাশ্চাত্যের নানা কাব্য আন্দোলনে আমরা এখনো আলোড়িত হই , চলে অন্ধ অনুকরণেরও মহড়া ।

কবিতার বিষয়বস্তু নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই । মানুষের মৌল আবেগগুলো চিরন্তন , যদিও সমস্যাগুলোর চেহারা বদলায় - নতুন নতুন দর্শনের আবির্ভাব ঘটে । প্রকরণ ও প্রকাশভঙ্গিতেই সবচে’ বেশি পরিবর্তন লক্ষ করা যায় ।পরিবর্তন যাই হোক - আমাদের পর্যবেক্ষনে কবিতা ক্রমশই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে ।হাজারো কবিযশোপ্রার্থীর অবিরল সাধনা সত্ত্বেও পাঠক কেবল দূরে সরে যাচ্ছে । কবিতার বই ছাপানোর কথা শুনলে প্রকাশক আঁতকে ওঠেন ।তবু নিজের খরচে অসংখ্য বই বেরুচ্ছে , আর কবিরা দেদার সেসব বই পরিচিতজনদের বিলিয়ে দিচ্ছেন ।

আমরা জানি , অগ্রসর কবিতাপাঠে পাঠকের যে যোগ্যতা অর্জন আবশ্যক , সে যোগ্যতা এদেশের তথাকথিত শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও বিরল - তবু প্রকৃত পাঠকদের অনেকেও কবিতা পাঠ থেকে আনন্দ নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলেই মনে হয় ।

পাশ্চাত্য কবিতা ভাবনা থেকে আমরা অনেক কিছুই সার্থক ভাবে নিয়েছি ।ফল্ট (চ্যুতি), এসট্রেঞ্জমেন্ট (অপরিচিতিকরন ) শিল্পের ব্যাপ্তি ঘটিয়েছে ।তবু ভারতীয় কাব্যতত্ত্বে বর্ণিত - ‘রসাত্মক বাক্যই কাব্য’ এখনো প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। কবিতা কি আজ তার রস হারাচ্ছে ? কবিতার শরীর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ছবি ও সঙ্গীত ,হারিয়ে যাচ্ছে গন্ধ , বর্ণ , স্পর্শ সহ অন্যান্য সংবেদন? নানা নিরীক্ষার ফলে এক ধরনের চিন্তার উল্লম্ফনকে কবিতা বলে অভিহিত করা হলেও, সেগুলো পাঠককে স্পর্শ করতে ব্যর্থ হচ্ছে ।

কবিতা কোনো নির্দেশনা মানে না,তবু কয়েকটি বিষয় আমরা সবাইকে ভেবে দেখতে বলি -
১/ কবিতায় ছবি, সঙ্গীত (গীতলতা) ফিরিয়ে আনতে হবে। ছন্দ, স্পন্দ, প্রয়োজনে অন্ত্যমিল, অনুপ্রাস সব কিছু দিয়ে কবিতাকে স্মরণযোগ্য করে তুলতে হবে।
২/ কবিতায় স্পর্শ , ঘ্রাণ সহ সকল সংবেদন স্পষ্ট করতে হবে।
৩/ সব মিলিয়ে পাঠককে আমূল নাড়িয়ে দিতে হবে শব্দের শক্তিতে। আমরা জেনেছি ‘শব্দই ব্রহ্ম্’। শব্দে শব্দে বিবাহ দিতে হবে যথাশব্দের ব্যবহারে। কোন শব্দের সাথে কোন শব্দ অনিবার্য, আমরা তা খুঁজে বের করব।
৪/ বাকসংযম অনিবার্য, যে কথা দুই লাইনে বলা যায়, সে কথা দশ লাইনে বলবোনা
৫/ রহস্য ও ব্যঞ্জনা - একাধিক পাঠে ও পাঠকবিশেষে ভিন্ন ভিন্ন অর্থের সম্ভাবনা থাকবে কবিতায়।
৬/ মৌলিক আবিষ্কার ও উন্মোচন থাকবে কবিতায়।
৭/ আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস, জীবন সংগ্রাম, যাপিত অভিজ্ঞতা সবই উঠে আসবে শিল্পিতভাবে।
৮/ কবিতা কোন মতবাদিক আদর্শের দাসত্ব করবেনা, যদিও জীবনলগ্ন দর্শন আবশ্যিকভাবেই উঠে আসতে পারে।
১০/ সব মিলিয়ে তৈরী হতে হবে এক অভূতপূর্ব রস - কবিতার রস।

কবিতার জয় হোক, কবিতার পরিবার সুখী হোক। "পারিবারিক" ব্লগ-জিন সকলের সদিচ্ছায় এক অনন্য সাধারণ মাধ্যম হয়ে উঠুক অসংখ্য কবিতার পাঠক পাঠিকা সৃষ্টি করুক - কবিতাকে ভালোবাসবার আত্মিক শুদ্ধতা প্রদান করুক ।

ম্যানিফেস্টো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ম্যানিফেস্টো লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৩

ম্যানিফেস্টো - জয়ন্ত সাহা

আধুনিক কবিতা একজন সাধারণ মানুষের ভাবনায়


কবিতার পরিবারের দুই কাছের মানুষ সুমিত রঞ্জন দাস ও সিদ্ধার্থ শর্মার অনুরোধ অগ্রাহ্য না করতে পেরে এই লেখা লিখতে বসেছি - যদিও আমি নিজেই সন্দিহান আধুনিক কবিতার বিচারবোধ নিয়ে কিছু লেখার সক্ষমতা সম্বন্ধে। আমি নিজে ঠিক আধুনিক বলতে যা বোঝায় সেরকম কবিতা লিখে অভ্যস্ত নই - কিন্তু সমসাময়িক আধুনিক কবিতার পাঠক। সময়ের পরিবর্তন হচ্ছে, মানুষের রুচির পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু মানবচিত্তের ইচ্ছার আরতিতে কল্পনা চিরকাল মুক্ত বিহঙ্গের মত থাকে - আবার সামাজিক নিয়মে বাঁধা, অস্থির সমাজের কর্দম ও ক্ষতচিহ্ন মাখা, দগদগেঘায়ে লিপ্ত অনুভব-ও জুড়ে থাকতে চাইছে। আবেগ প্রবন ও আধুনিক কবিদের মধ্যেসবচেয়ে গীতিময় আমার প্রিয় বদ্ধুদেব বসুর মতে - "কবিতা এমন কোনো পদার্থ নয়যাকে কোনো একটা চিহ্নদ্বারা সনাক্ত করা যায়' যেহেতু আধুনিকতা হচ্ছে সমাজপ্রগতির নির্ণয়ক তাই মৌলিক প্রেম, প্রকৃতি - র সাথে চার পাশের মানুষ, সামাজিক আন্দোলন, ইত্যাদি অজান্তেই হয়ে ওঠে কবিতার মূল উপকরণ।কবিকে মনোযোগীহতে হবে দেখতে তার কাব্যকে ঘিরে আছে কিনা তীব্র সচেতনতা ও অনুভবের পটভূমি।অনেকেই যারা কবিতা বুঝলাম না কবিতা বুঝি না বলে খেদ প্রকাশ করেন তাদেরভাবতে হবে - কবিতা বোঝা নয় - কবিতা অনুভবের - কবিতা উপলব্ধির। কবি ও পাঠকের মেলবন্ধন ঘটে কবিতা। আর এই মেল্বন্ধনেই অপজাতের বিষয়াশ্রয়ী হয়েও অনেকসময়-ই কবিতা উঁচু জাতের শিল্প কর্ম হতে পেরেছে। কনোর রকম ছুৎমার্গ ছাড়াইপড়তে ভালো লাগে সেই সব কবির কবিতাও যারা তাবৎ সংস্কার ও প্রথা ভাঙার আন্দোলনে সুর্যের মত দ্বিধাহীন, এমন কিছু তরুন কবির সন্ধান-ও পেয়েছি এইবৈদ্যুতিন মাধ্যমের দ্বারা। হাংরি আন্দোলনের বয়স ছিল মাত্র চার বছর -কিন্তু আজ-ও এই পঞ্চাশ বছরে পরে কাউকে কাউকে দেখি এর ভাবধারাতে উদ্বুদ্ধহতে।

মজা হলো এই যে বিশ্বে যেই কবিতাগুলো বেশি জনপ্রিয় তার মধ্যেপ্রেমের কবিতার সংখ্যাই বেশি। বৈষ্ণব পদকারকার দেহাত্মা আর পরমাত্মার সংশ্লেষণ ঘটিয়েছিলেন তাদের কবিতায়। সেই ধারায় লেখা অনেক কবির কবিতায়আজকাল দেখি দেহাত্মা অর্থাৎ দেহজ অনুভব বেশি প্রাধান্য পায় কিন্তুপরমাত্মিক অনুভব উহ্য থেকে যায়। তাদের ভাবতে হবে এই গ্যাপ টা। পরকিয়াপ্রেমে অনেকের অনুরক্ততা কবিতায় ফুটে ওঠে - রাধা-কৃষ্ণ, ইউসুফ-জুলেখা -এদের কাছে দারুন অনুভব আনে। আবেগময় অনুভূতিতে শব্দের ব্যঞ্জনায় সাজিয়ে আবেগের উন্মাদনায় সৌন্দর্যের আস্বাদন ঘটান কত কবি আজ-ও। কিন্তু কবিতা লিখতে লিখতে কবি যখন এই বোধে উপনীত হন - প্রেম শাশ্বত, প্রেম চিরন্তন তখনঅনেক সময়-ই প্রেমের কবিতা লিখতে আর তার মন চায় না।আজকাল আধুনিক গদ্য কবিতার ভ্যন্তরে-ও অনেক কবি সহজ ও সচেতনভাবে উপস্থাপনায় প্রিয়া ও রাজনীতিকে তুলনা করতে পারেন। গদ্যগুণসমৃদ্ধ আধুনিক কবি ছন্দবিহীন পঙ্ক্তি দ্বারাও যখনগদ্যে লুক্কায়িত ছন্দ পাঠকের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হন - তা অসাধারনতায় পৌঁছে যায়। তবে সাধারণ পাঠকের কাছে খুব ন্যায্য কারণেই একটা ভাবনা আসতেপারে আধুনিক কবিতা ঠিক কতটা ভাবোন্মাদ অথবা কতটা ভাবগ্রাহী হলে কোনোকবিতাকে কবিতা রূপে গ্রহণ করা যেতে পারে। এই ভাবনাটাকেও আধুনিক কবিদেরগুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেই আমি মনে করি। তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ, আখ্যানমূলক, অন্ত্যমিলবিশিষ্ট লেখা পড়তে অভ্যস্ত পাঠকের কাছে গদ্যে ছন্দ খুঁজে দেওয়াআধুনিক কবিদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। ধারাবাহিকতা রক্ষা করে প্রপঞ্চর পরে প্রপঞ্চ নির্মাণের তাগিদ বাংলা কবিতা সাহিত্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস।

শনিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১২

সরদার ফারুক

এবারের ম্যানিফেস্টোঃকবিতা নিয়ে কিছু কথা

বাস্তবে এই প্রশ্নটা আমাদের ভাবতে বাধ্য করছে । বৈদ্যুতিন মাধ্যমের সুবিধে নিয়ে এবং খুব জনপ্রিয় সোসাল সাইট গুলোর কল্যানে মানুষ এত কবিতা লিখছেন - পড়ছেন - ভাবছেন যে মনে প্রশ্নের চিহ্ন এঁকে দিচ্ছে কেমন কবিতা আমরা পছন্দ করি ? কী রকম হওয়া উচিত কবিতার শরীর ? এই প্রশ্নগুলো সবাইকে ভাবায় । অনেকদিন হ’ল আধুনিক কবিতার মৃত্যু ঘোষণা করে এসেছে পোস্টমডার্ন কবিতা । বিনির্মাণ ,বিমানবিকীকরণও এখন পুরোনো হয়ে গেছে , তবু পাশ্চাত্যের নানা কাব্য আন্দোলনে আমরা এখনো আলোড়িত হই , চলে অন্ধ অনুকরণেরও মহড়া ।

কবিতার বিষয়বস্তু নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই । মানুষের মৌল আবেগগুলো চিরন্তন , যদিও সমস্যাগুলোর চেহারা বদলায় - নতুন নতুন দর্শনের আবির্ভাব ঘটে । প্রকরণ ও প্রকাশভঙ্গিতেই সবচে’ বেশি পরিবর্তন লক্ষ করা যায় ।পরিবর্তন যাই হোক - আমাদের পর্যবেক্ষনে কবিতা ক্রমশই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে ।হাজারো কবিযশোপ্রার্থীর অবিরল সাধনা সত্ত্বেও পাঠক কেবল দূরে সরে যাচ্ছে । কবিতার বই ছাপানোর কথা শুনলে প্রকাশক আঁতকে ওঠেন ।তবু নিজের খরচে অসংখ্য বই বেরুচ্ছে , আর কবিরা দেদার সেসব বই পরিচিতজনদের বিলিয়ে দিচ্ছেন ।

আমরা জানি , অগ্রসর কবিতাপাঠে পাঠকের যে যোগ্যতা অর্জন আবশ্যক , সে যোগ্যতা এদেশের তথাকথিত শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও বিরল - তবু প্রকৃত পাঠকদের অনেকেও কবিতা পাঠ থেকে আনন্দ নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলেই মনে হয় ।

পাশ্চাত্য কবিতা ভাবনা থেকে আমরা অনেক কিছুই সার্থক ভাবে নিয়েছি ।ফল্ট (চ্যুতি), এসট্রেঞ্জমেন্ট (অপরিচিতিকরন ) শিল্পের ব্যাপ্তি ঘটিয়েছে ।তবু ভারতীয় কাব্যতত্ত্বে বর্ণিত - ‘রসাত্মক বাক্যই কাব্য’ এখনো প্রাসঙ্গিকতা হারায়নি। কবিতা কি আজ তার রস হারাচ্ছে ? কবিতার শরীর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ছবি ও সঙ্গীত ,হারিয়ে যাচ্ছে গন্ধ , বর্ণ , স্পর্শ সহ অন্যান্য সংবেদন? নানা নিরীক্ষার ফলে এক ধরনের চিন্তার উল্লম্ফনকে কবিতা বলে অভিহিত করা হলেও, সেগুলো পাঠককে স্পর্শ করতে ব্যর্থ হচ্ছে ।

কবিতা কোনো নির্দেশনা মানে না,তবু কয়েকটি বিষয় আমরা সবাইকে ভেবে দেখতে বলি -
১/ কবিতায় ছবি, সঙ্গীত (গীতলতা) ফিরিয়ে আনতে হবে। ছন্দ, স্পন্দ, প্রয়োজনে অন্ত্যমিল, অনুপ্রাস সব কিছু দিয়ে কবিতাকে স্মরণযোগ্য করে তুলতে হবে।
২/ কবিতায় স্পর্শ , ঘ্রাণ সহ সকল সংবেদন স্পষ্ট করতে হবে।
৩/ সব মিলিয়ে পাঠককে আমূল নাড়িয়ে দিতে হবে শব্দের শক্তিতে। আমরা জেনেছি ‘শব্দই ব্রহ্ম্’। শব্দে শব্দে বিবাহ দিতে হবে যথাশব্দের ব্যবহারে। কোন শব্দের সাথে কোন শব্দ অনিবার্য, আমরা তা খুঁজে বের করব।
৪/ বাকসংযম অনিবার্য, যে কথা দুই লাইনে বলা যায়, সে কথা দশ লাইনে বলবোনা
৫/ রহস্য ও ব্যঞ্জনা - একাধিক পাঠে ও পাঠকবিশেষে ভিন্ন ভিন্ন অর্থের সম্ভাবনা থাকবে কবিতায়।
৬/ মৌলিক আবিষ্কার ও উন্মোচন থাকবে কবিতায়।
৭/ আমাদের ঐতিহ্য, ইতিহাস, জীবন সংগ্রাম, যাপিত অভিজ্ঞতা সবই উঠে আসবে শিল্পিতভাবে।
৮/ কবিতা কোন মতবাদিক আদর্শের দাসত্ব করবেনা, যদিও জীবনলগ্ন দর্শন আবশ্যিকভাবেই উঠে আসতে পারে।
১০/ সব মিলিয়ে তৈরী হতে হবে এক অভূতপূর্ব রস - কবিতার রস।

কবিতার জয় হোক, কবিতার পরিবার সুখী হোক। "পারিবারিক" ব্লগ-জিন সকলের সদিচ্ছায় এক অনন্য সাধারণ মাধ্যম হয়ে উঠুক অসংখ্য কবিতার পাঠক পাঠিকা সৃষ্টি করুক - কবিতাকে ভালোবাসবার আত্মিক শুদ্ধতা প্রদান করুক ।